মূল পাতায় ফিরুন

২০ মে ২০১৭, বাংলাদেশ সময় ১১:২১ পিএম

হাওরের শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরা রোধে একদল তরুণের প্রয়াস

স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ মিরর

[Photo]
বিরামহীন বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সব হাওরের ফসল। এতে যেমন হুমকির মুখে পড়েছে কৃষিনির্ভর এই এলাকার মানুষের জীবিকা, তেমনি হুমকিতে কৃষিকাজ করে খেটে খাওয়াদের পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।

জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পরা রোধে সাহায্য ও শিক্ষা উপকরণ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন একদল তরুণ। তাদের সংগঠনের নাম ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ’। ‘রিবুট স্কুলিং’ প্রকল্প নিয়ে তারা মাঠে নামেন। গত ১২ মে থেকে শুরু করে ১৫ মে পর্যন্ত চারদিন তারা বিশ্বম্ভরপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্গত পরিবারের ১২০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ দেন।

১২ মে সকালে বিশ্বম্ভরপুরের পলাশে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা। ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির অন্যতম সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাবের উবায়েদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ সহ অন্য স্বেচ্ছাসেবীরা।

এ উদ্যোগের প্রসঙ্গে জাবের উবায়েদ বলেন, হাওর বিপর্যয়ের পরই এমন ভাবনা তাদের মাথায় এসেছিল। পরে উদ্যোগ নিয়ে কাজে নেমে পড়েন তারা। আরেক উদ্যোক্তা জেহিদুল বলেন, দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্কুলশিক্ষকরা সাহায্য করেছেন। পরে তাদেরকে শিক্ষা উপকরণ দেয়া হয়েছে।

প্রজেক্ট ‘রিবুট স্কুলিং’ এর আওতায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ, ফতেহপুর ও দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২০০ শিক্ষার্থীকে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা সমমূল্যের শিক্ষা উপকরণ দেয়া হয়। এর আগে এ অর্থ সংগ্রহ করার জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্যাম্পেইন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য পেয়েছেন। মূলত ঢাকাভিত্তিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গড়া এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পরপরই হাওরের শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা কর্মসূচি করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মূল পাতায় ফিরুন